ঢাকা , বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ , ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদনে শিশু ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৬-০৫-২০২৬ ১০:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ০৬-০৫-২০২৬ ১০:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন
মদনে শিশু ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার ফাইল ছবি
নেত্রকোণার মদনে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগরকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। বুধবার (৬ মে) ভোর সোয়া চারটার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বুধবার ভোর রাত সোয়া চারটার দিকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলা থেকে র‌্যাব- ১৪ (ময়মনসিংহ)-এর একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। দুপুর একটার দিকে র‌্যাবের পক্ষ থেকে আসামিকে আমাদের হাতে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। আসামিকে আমাদের হাতে হস্তান্তরের পর যত দ্রুত সম্ভব আমরা তাকে আদালতে প্রেরণ করবো। 

পাশাপাশি র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুপুর ১২টায় চাঞ্চল্যকর মামলার মূল আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং করবেন র‌্যাব-১৪ এর অধিনায়ক।

গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় মদন থানায় ভুক্তভোগীর মা আমানউল্লাহ সাগরকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। একই মাদরাসাতে তার স্ত্রীও প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। ভুক্তভোগীও একই এলাকার বাসিন্দা। মেয়েটির মাকে ছেড়ে গেছে তার বাবা। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় লেখাপড়া করতো।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখান ওই মাদরাসা শিক্ষক। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে ওই শিক্ষক ছুটিতে যাওয়ার পর আর মাদরাসায় আসেননি বলে জানিয়েছেন মাদরাসার আরেক শিক্ষক। আর ভুক্তভোগী ছাত্রী গত পাঁচ মাস ধরে মাদরাসায় আসা বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের। তখন তার মা সিলেট থেকে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে ঘটনা। শিশুটি মাদরাসার শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানায়। এরপর শিশুটিকে নিয়ে মদন উপজেলার বেসরকারি মেডিকেলে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারকে দেখান। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, মেয়েটি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ